Excellent Communication Skills – মানে কি! [জব/ইন্টারভিউ এর যে সিক্রেট কেউ বলে না]

·

প্রায় চাকরির বিজ্ঞাপনে লেখা থাকে যে প্রার্থীর যোগাযোগের দক্ষতা খুব ভালো হতে হবে। এটা আমরা দেখে মনে করি এ আর এমন কি! আমি তো সাবলীল ভাবেই কথা বলতে পারি। ইংরেজি বাংলা কোন ভাষাতেই সমস্যা নাই। দীপিকা পাডুকোন রে দেখে হিন্দিও তো শিখসি :p

কিন্তু এই কমিউনিকেশন মানে শুধু যোগাযোগ না, আন্তরিক এবং প্রফেশনাল যোগাযোগ। বিশেষ করে আপনি যদি অনলাইনে কাজ করেন। সোজা করে বললে একজন ফ্রিল্যান্স প্রফেশনাল এর ক্যারিয়ার ধ্বংস করার জন্য যেমন কমিউনিকেশন দায়ী, ঠিক তেমনি তার রক সলিড রেপুটেশন এর জন্যও সেই কমিউনিকেশন ই গুরুত্বপূর্ণ।

যদি আপনি কোন কাজ বোঝেন এবং পারেন, ঠিক কতটুকু বোঝেন বা পারেন এবং ঠিক কোন অংশটুকুর জন্য আপনার সাহায্য সহযোগিতা প্রয়োজন তা আপনার কলিগ এবং ম্যানেজারের কাছে পরিষ্কার করা হচ্ছে কমিউনিকেশন।

কোন কারনে কাজ করতে দেরি হলে বা কাজে কমপ্লিকেশন আসলে সেটা সঠিক ভাবে ঠাণ্ডা মাথায় জানানো হচ্ছে কমিউনিকেশন।

দায়সারা ভাবে ডেডলাইন মিট করার জন্য কাজ করে দিয়ে অসম্পূর্ণ কাজ দেওয়াটা হচ্ছে মিস কমিউনিকেশন।

কাজে কোন সমস্যা ফেস করলে সেটা টিমমেট এবং ম্যানেজারের সাথে শেয়ার না করে মন খারাপ করে থাকলে, সেটা মিস কমিউনিকেশন।

এই ব্যাপার গুলো আমি এবং আমার পরিচিত কাউকে খেয়াল করতে দেখিনি। এমনো দেখেছি, নিজে বুঝতে পারছেন যে তার কমিউনিকেশনের জন্য তিনি এখন বিপদে আছেন, কিন্তু তারপরও তিনি তা সমাধানে কোন প্রকার উদ্যোগ গ্রহণ করছেন না।

এই কমিউনিকেশন স্কিল কিন্তু শুধু প্রফেশনাল লাইফেই না, আমাদের ব্যাক্তিগত জীবনেও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারো সাথে কথা বলে অস্বস্তি হলে সেটা তাকে জানিয়ে সমাধান করলে শান্তিতে থাকা যাবে। তার ফোন রিসিভ না করে, দেখেও না দেখার ভান করলে অস্বস্তি আজীবন থেকে যাবে।

আমার নিজেরও এই ধরনের সমস্যা আছে। তবে গত ৫-৬ মাস ধরে কাটিয়ে ওঠার জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এজন্য যে স্টেপ গুলো ফলো করছি তা হল-

১। সঠিক সময়ে কথা বলা
প্রত্যেকটা কথার সময় আছে। ভালো কথা, মন্দ কথা, সাধারণ আলোচনা যা-ই হোক। সময়ের দিকে খেয়াল রাখার চেষ্টা করি। খুশির সংবাদ গুলো সকালে অথবা রাতে দেওয়ার চেষ্টা করি। দুঃখের খবর শুধুমাত্র রাতে। আর সাধারণ আলোচনা লাঞ্চ টাইমের পরে।

২। কথা গুছিয়ে বলা
বন্ধুকে হয়তো কোন একটা পোষাকে মানাচ্ছে না; তাকে সরাসরি “এই তোরে এইটায় ভাল্লাগেনা” না বলে একটু ঘুরিয়ে বলার চেষ্টা করি “অন্য কিছু ট্রাই কর”। অর্থাৎ সমস্যার দিকে সরাসরি আঙ্গুল না তুলে একটা ভালো সমাধান প্রস্তাব করা। কারো আইডিয়া একেবারেই বস্তা পচা হলেও সেটা তাচ্ছিল্য না করে বা সরাসরি অগ্রাহ্য না করে তাকে ধন্যবাদ দিয়ে সেই আইডিয়াকে একটু ঘুরিয়ে বাকিয়ে সঠিক দিকে আনা। সহজ করে বললে মিটিং গুলোতে ডিপ্লোম্যাটিক হওয়া।

৩। কি করতে হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া
বেশির ভাগ মিটিং এ সিনিয়র বা বস খুব সংক্ষেপে কি করতে হবে বলে দেন। কিন্তু যেকোনো কাজ শুরু করার আগে একটা কনসেপ্ট থাকে বা প্রয়োজন সেইম ক্লায়েন্টের জন্য সেইম কাজে একেক সময় একেক রকম হতে পারে। বিশেষ করে স্টার্ট আপ গুলোতে অনেক সময় কোন নির্দেশনা-ই দেওয়া হয় না। অনেক সময় নিজেকে একটা কাজ বুঝে রেডি করতে হয়, কিন্তু শেষ করার পর বস বলতে পারেন আমি তো রোদ না জোছনা চেয়েছিলাম। তাই যতটুকু সম্ভব কাজ শুরু করার আগে নিশ্চিত হয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে যে আপনি যা ভাবছেন তা সবার সাথে মিলছে কি না। তবে বিরক্ত বোধ করলে প্রশ্ন করার ব্যাপারে একটু কৌশলে ম্যানেজ করে নিতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন করলে বিরক্ত হয় বলে একেবারে অন্ধকার কুয়াতে ঝাঁপিয়ে পরা যাবে না।

৪। দেরি হওয়া মানে যেন অবহেলা না হয়
ভার্চুয়ালি কাজ করলে অনেক সময় কমপ্লিকেশনের জন্য ২-৩ দিন লেট হয়ে যায়। পারতেছি না, বা সমস্যা ধরতে কষ্ট হচ্ছে এটা না বলে ঘাপটি মেরে থাকতাম। ৩ দিন পরে ক্লায়েন্ট নিজে থেকে আপডেট জিজ্ঞেস করলে তখন বলতাম, ভাই করতেছি তো! সে যেত ক্ষেপে। এখন সেই সুযোগ না দেওয়ার চেষ্টা করি। যদি ৩ দিন ধরে সমস্যা খোঁজ করায় ব্যাস্ত থাকি, ৩ দিনই মেইল দিয়ে বলি, ভাইরে আজকেও সমস্যা খুঁজে পাই নাই। প্লিজ রাগ কইরো না। আমি যথেষ্ট আন্তরিক ভাবে কাজ করতেছি। সেও তখন বলে ঠিক আছে সময় নাও।

৫। সে কেন বুঝলো না!
ওয়ার্কপ্লেস এ সবাই একসাথে একটা সিঙ্গেল গোল নিয়ে কাজ করতে যায়। এখানে ফ্যামিলি, পরিবার টাইপ শব্দ ব্যবহার করা হলেও তা বেশি সিরিয়াসলি নেয়া ঠিক না। এখানে সবাই আসছে স্যালারি এবং নিজের ক্যারিয়ার গড়ার জন্য। অতএব নিজের স্বার্থে অনেকে অনেক কিছু বুঝলেও অনেক সময় না বুঝার মত করতে পারে। আপনিও যদি অভিমান করে বসে থাকেন, এই সমস্যা কখনো সমাধান হবে না। বরং “ফ্যামিলি” এর মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়বে। স্কুলের মত সেইম ক্লাসেই অনেক গুলা আলাদা গ্রুপ হয়ে যাবে। এটা যেকোনো মূল্যে এভয়েড করতে হবে। বস বা কলিগ যে কেউ ভুল বুঝলে তার সাথে ঠাণ্ডা মাথায় চা কফি খাওয়ার সময় কথা বলুন। বস আপনার প্রয়োজন না বুঝলে তার সাথেও সোজাসুজি আলোচনা করুন। মানুষ একজন মানুষের মন পড়তে পারে না। তাকে জানাতে হয় আমি এমন অনুভব করছি। এই জন্যই প্রবাদ আছে, “কান্না না করলে মা বুঝেন না বাচ্চার খাওয়া প্রয়োজন”।

 

কার্যকর কমিউনিকেশন নিয়ে আপনিও দুই লাইন কমেন্টে শেয়ার করতে পারেন 🙂

Comments

Leave a Reply